বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ন
বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে আটক বিরোধী নেতাকর্মীদের মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে সংস্থাটি বাংলাদেশে দমনমূলক প্রবণতা প্রতিহত করতে এবং রাজনৈতিক সংলাপ ও অংশগ্রহণ পুনরুদ্ধার করতে বড় ধরনের মানবাধিকার সংস্কারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়।
বুধবার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা। এ সময় তারা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি চারটি আহ্বান জানান।
বিবৃতি জানানো জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা হলেন, স্বাধীনতাবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার ক্লেমেন্ট নায়ালেটসোসি ভোল, বিচারক ও আইনজীবীদের স্বাধীনতাবিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার মার্গারেট স্যাটারথওয়েট, মানবাধিকার সুরক্ষা পরিস্থিতি বিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার ম্যারি ললোর, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিকাশ ও সুরক্ষাবিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার আইরিন খান, চেয়ার-র্যাপোর্টিয়ার প্রিয় গোপালান, ভাইস চেয়ার ম্যাথিউ গিলেট ও গানা ইয়ুদকিভস্কা এবং নির্বিচারে আটকবিষয়ক ওয়ার্কিং কমিটির মিরিয়াম এস্ত্রাদা-ক্যস্তিলো ও মুম্বা মালিলা।
বিবৃতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বলেন, আমরা বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি দিয়েছি, তাদের কথিত অসংখ্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে পূর্ণ, দ্রুত এবং স্বাধীন তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছি। তারা বলেন, বর্তমান সরকার চতুর্থ মেয়াদে সরকার গঠন করেছে। এখন মানবাধিকার পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে হবে। যেখানে সরকার নিয়মিত দমনমূলক আচরণ পরিহার করবে। প্রয়োজনে রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে তা অর্জন করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, আমরা মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে শক্তিশালী করার জন্য এ এবং অন্যান্য পদক্ষেপের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে সমর্থন ও পরামর্শ দিতে প্রস্তুত।
বিবৃতিতে তারা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি চারটি আহ্বান জানান। এগুলো হচ্ছে- অবিলম্বে এবং নিঃশর্তভাবে সুশীল সমাজ এবং রাজনৈতিক কর্মীদের মুক্তি দিতে হবে যাদের কোনো অভিযোগ ছাড়াই বা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ অভিযোগে আটক করা হয়েছে। ফৌজদারি অপরাধের জন্য অভিযুক্তদের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বিচার ব্যবস্থার অখণ্ডতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়া মত প্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, অবাধ ও বাধাবিহীন অনুশীলনের নিশ্চয়তা দিতে হবে। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক সমাবেশে অযথা বিধিনিষেধ আরোপ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে এসব মৌলিক স্বাধীনতার গুরুতর লঙ্ঘন করা হলে তার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
সবশেষ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সমালোচনামূলক প্রতিবেদনের বিপরীতে হুমকি, শারীরিক ও অনলাইন সহিংসতা বা বিচারিক হয়রানি এবং ফৌজদারি বিচার থেকে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আহ্বান জানান বিশেষজ্ঞরা।